
বাংলা রিডার ডেস্ক
জুলাই গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিলেন সাংবাদিক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন তিনি। বেলা ১১টায় আদালতে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে সোমবার দিনভর প্রথম দফায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দেন মাহমুদুর রহমান। তবে সেদিন সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করে।
পরবর্তী সাক্ষী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে।
মাহমুদুর রহমান তার সাক্ষ্যে শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ উত্থান এবং এর পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের মহান জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এক নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটেছে।” তার দাবি, এই ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছিল ‘ম্যাটি কুলাস’-নামে পরিচিত একটি গভীর পরিকল্পনার মাধ্যমে, যেখানে বাংলাদেশের কিছু রাজনীতিবিদের পাশাপাশি একটি বিদেশি শক্তি জড়িত ছিল।
তিনি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আত্মজীবনী ‘দ্য কোয়ালিশন ইয়ার্স’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের সহায়তায় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল।
মাহমুদুর রহমান তার সাক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ঘটনার বিবরণ দেন, যার মধ্যে রয়েছে: ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড, সেনাবাহিনীকে ‘ডিমোরালাইজ’ করার প্রচেষ্টা, বিচারব্যবস্থার ‘দলীয়করণ’, স্কাইপ কেলেঙ্কারি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার বর্ণনা, তিনটি ‘ভুয়া’ জাতীয় নির্বাচন, আয়নাঘর ও গুম-খুনের কালচার প্রতিষ্ঠা, ‘জঙ্গি নাটক’ নির্মাণের অভিযোগ, তার নিজের ওপর নির্যাতনের অভিজ্ঞতা।
তিনি এসব কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিদের দায়ী করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যা থেকে জাতিসংঘের প্রতিবেদন পর্যন্ত সাক্ষ্যে মাহমুদুর রহমান বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও তুলে ধরেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ও সেই প্রসঙ্গে জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়েও কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনীসহ সরকারের একাধিক বিভাগ ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ হিসেবে কাজ করেছে।
মাহমুদুর রহমান তার সাক্ষ্যে স্পষ্টভাবে কয়েকজন বিচারপতির নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা ফ্যাসিবাদী শাসনকে শক্তি জুগিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, বিচারপতি নিজামুল হক, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
এছাড়া ডিজিএফআই প্রধানসহ নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকের ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
মাহমুদুর রহমান কাল তার সাক্ষ্যের বাকি অংশ উপস্থাপন করবেন। এরপর উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল সূত্র।


