নেপালে জেন জি বিক্ষোভে নিহত ২০, সংঘর্ষে শত শত আহত

বাংলা রিডার ডেস্ক
নেপালে সরকারবিরোধী জেনারেশন জি  আন্দোলনে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত শত শত বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক এবং নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, রাজধানী কাঠমান্ডুর তিনটি হাসপাতালে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে পাঁচজন, সিভিল হাসপাতালে দুজন এবং কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ, সিনামঙ্গল-এ একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের চিকিৎসা চলছে বিভিন্ন হাসপাতালে। আন্দোলনের সহিংস রূপ ও প্রাণহানির ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণ এবং সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেপালে জেনারেশন জি (Gen Z)-এর নেতৃত্বে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুতে হাজারো বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ছুড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

সরকার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে এবং সেনা মোতায়েন করেছে।

সকালে কাঠমান্ডুর মৈতিঘর এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করেন। “হামি নেপাল” নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই আন্দোলনে মূলত তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সংগঠনটির চেয়ারম্যান সুধান গুরুং বলেন, “সরকারি দুর্নীতি, জবাবদিহিহীনতা ও স্বচ্ছতার অভাবের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন।”

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় সরকার কর্তৃক নিবন্ধনহীন ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের ঘোষণার পর। এরপর থেকেই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তরুণরা অনলাইনে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে, যা দ্রুত রাস্তায় নেমে আসে।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই ছাত্র ইউনিফর্ম ও বই হাতে নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের রুট ও করণীয় সম্পর্কে তথ্যও ছড়িয়ে দেন।

সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর বানেশ্বর এলাকায় প্রবেশের পরপরই পুলিশি বাধা অতিক্রম করে পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে জনতা। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো—রাষ্ট্রপতির বাসভবন শীতলনিবাস, উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন লেইনচৌর, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বালুয়াটারসহ বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You