
বাংলা রিডার ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ‘আরও বড় কিছু’ করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিস্থিতিকে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন যে কৌশল নিয়ে কাজ করছে, তার অন্যতম লক্ষ্য ইরানকে মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আরও কাছাকাছি আনা।
এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন নিরাপত্তার নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করে ইরানের প্রভাব মোকাবিলা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা এটি নিয়ে কাজ করছেন।
গাজা, সিরিয়া ও লেবানন নিয়েও পরিকল্পনা
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার আরেকটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা কমানো। এর মধ্যে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ থাকতে পারে।
এ ছাড়া ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এবং ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ও পরিকল্পনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা
ট্রাম্প প্রশাসনের বড় লক্ষ্যগুলোর একটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডস আরও সম্প্রসারণ করা। এর পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি করানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সৌদি-ইসরায়েল চুক্তি হলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে এটিকে তুলে ধরা হতে পারে।
ইসরায়েলের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা। এর কিছুদিন পর নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রেও মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, ইসরায়েলের নির্বাচনের পর যে সরকার গঠিত হবে, তারা ওয়াশিংটনের নতুন মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চূড়ান্তভাবে স্থির হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে চায় না ট্রাম্প প্রশাসন।
অ্যাক্সিওসের সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের পর যদি ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়, তারপরও ট্রাম্প পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারেন।
এখনো চূড়ান্ত হয়নি পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে অন্তত দুটি বৈঠকে এই কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এসব বৈঠকে বিভিন্ন ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি নিয়ে কাজ চলছে, তবে এখনো তা পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের পর পুরো অঞ্চলে কীভাবে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক কাঠামো তৈরি করা যায়, মূলত সেটিই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র এই উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত যুক্ত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: অ্যাক্সিওস, এনডিটিভি



