
বাংলা রিডার ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইনের বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। এ সময় একটি নৌ-মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং ট্যাংকারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২৬ জুন ইরান সতর্ক করে জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তেহরান নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নির্ধারিত নৌপথ থেকে সরে গিয়েছিল। নির্ধারিত রুট লঙ্ঘন করে চলাচলের সময় এটি একটি নৌ-মাইনে আঘাত করলে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
হরমুজে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেদের নির্ধারিত জলপথ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। এর আগেও বারবার সতর্ক করে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছিল যে, নির্ধারিত নৌপথ ত্যাগ করে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে এর পরিণতি ও প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাংকারটি ইরানের নির্ধারিত নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচলের করিডোর থেকে সরে গিয়ে এবং সতর্কতা উপেক্ষা করে নিরাপদ নৌপথের বাইরের একটি এলাকায় অবস্থান করছিল।
হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তথা নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে মতানৈক্যের জেরে চলতি মাসে ফের সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (MoU) উল্লেখিত যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই।
এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা বিমান হামলায় ৫৯ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুর এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।
আগের দফায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কিন হামলায় ইরানে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি



