২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: সব আসামির খালাসের হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল

বাংলা রিডার ডেস্ক
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলায় সব আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এর ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামি খালাস পেলেন।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় দেন। এর আগে ২১ আগস্ট মামলায় পাঁচদিন শুনানি শেষে ৪ সেপ্টেম্বর রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির।

২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ সব আসামিকে খালাস দেন। ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয় রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে। ২০২৫ সালের ১ জুন আপিলের অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ এবং পরে শুনানি শুরু হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো হয় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। এতে নিহত হন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন তিন শতাধিক নেতাকর্মী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়।

২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্রে ২২ জনকে আসামি করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে অধিকতর তদন্তের আবেদন করে। ২০১১ সালের ৩ জুলাই দেওয়া সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। এর মধ্যে তিনজনের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় বিচারাধীন আসামির সংখ্যা হয় ৪৯ জন।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন: লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি হান্নান (পূর্বেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), এনএসআই ও সেনাবাহিনীর সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কাশ্মীরি জঙ্গি, হুজি নেতারা এবং বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন: তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি ও তৎকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য।

স্বল্প মেয়াদে দণ্ডিতদের মধ্যে ছিলেন: সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, খালেদা জিয়ার আত্মীয় সাইফুল ইসলাম ডিউক, ডিএমপি, সিআইডি ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তারা।

২০১৮ সালের বিচারিক রায় হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আকারে গেলে আসামিরা আপিল করেন। ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। আজ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সেই রায় বহাল রেখে মামলা থেকে সব আসামিকে খালাস দেন।

এই রায়ের ফলে বাংলাদেশে আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় দীর্ঘ ২১ বছরের বিচার প্রক্রিয়া শেষে সব আসামি খালাস পেলেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউয়ে যাবে কিনা, তা এখনো জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You