
বাংলা রিডার ডেস্ক
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর-এখলাসপুর সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত ওই উপকরণ সরিয়ে নেওয়া শুরু করলে প্রকল্পের কাজের মান, সরকারি তদারকি এবং জনসাধারণের অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ কিলোমিটার ৩০০ মিটার দীর্ঘ ছেংগারচর-এখলাসপুর সড়কটি ১০ ফুট থেকে ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স নুনা ট্রেডার্স।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওই উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাদের সন্দেহ আরও বেড়েছে। তাদের দাবি, শুরু থেকেই যথাযথ তদারকি থাকলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ব্যবহৃত ইটের মান ঠিক থাকলে অভিযোগ ওঠার পর তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। ফারুক আহমেদের মতে, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয় এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্মাণকাজে এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। রফিকুল ইসলাম বলেন, খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রোগী পরিবহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা বর্ষাকালে আরও তীব্র আকার ধারণ করে। হারুনুর রশিদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে, আর এখন নতুন করে উপকরণ পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দীর্ঘ হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের ইটের খোয়া সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুসারে কাজ চলছে। তবে কীভাবে ওই উপকরণ নির্মাণস্থলে এলো বা কেন তা ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার জানান, নির্মাণকাজে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরই নিম্নমানের ইটের খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।



