
বাংলা রিডার ডেস্ক
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল বলেছেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে চাননি, কিন্তু জনগণই তাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছে। জনগণ বিএনপিকে দেখেছে ও চিনেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে এবং বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি কখনোই ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখবেন না। শেখ হাসিনার মতো মানুষ হত্যা করে বিএনপি ক্ষমতায় থাকবে না—এ কথা এ দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে।
সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুন নবী খান সোহেল বলেন, যেদিন এ দেশের জনগণ বলবে তারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব পছন্দ করে না, সেদিন থেকেই তিনি জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দিয়ে সরে দাঁড়াবেন। তিনি কখনোই ক্ষমতার দরজা বন্ধ করবেন না।
তিনি আরও বলেন, যারা বিএনপির নামে অপপ্রচার ও গিবত করে বেড়াচ্ছে, তারা জানে না গিবত কত বড় অপরাধ। কেউ কেউ বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে। প্রশ্ন রাখছি—আমাদের প্রিয় নবী (সা.) কি কখনো জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন? এরা আসলে ভণ্ড ও প্রতারক। বছরের পর বছর মানুষের কাছে বিএনপি নিজেকে প্রমাণ করেছে বলেই জনগণের আস্থা তৈরি হয়েছে। মানুষ জানে বিএনপি কারো গোলামি করে না। আর দ্বিতীয়ত, জনগণ তারেক রহমানকে ভালোভাবে চেনে।
তিনি বলেন, টানা ১৭ বছর চাঁদপুরবাসীর মনের আশা পূরণ হয়নি। অথচ চাঁদপুর ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন পর আবারও সেই সুযোগ এসেছে। ধানের শীষের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী এই প্রতীক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আমাদের নেতা তারেক রহমানও ১৭ বছর যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদের হাতেই আবার ধানের শীষ তুলে দিয়েছেন। আমাকে পাঠিয়েছেন এই প্রতীক প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর-৩ আসনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেন, আপনারা যদি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কেউ নানা ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করছে—সেগুলোতে পা দেবেন না। কেউ কোনো অন্যায় করতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাবেন। আমরা চাঁদপুরকে মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করবো, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করবো এবং সবাইকে নিয়ে চাঁদপুরের সব সমস্যা সমাধান করবো। ভোট গণনার ফল না জানা পর্যন্ত কেউ বাড়ি ফিরবেন না।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিমের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জমিয়তে ইসলাম জেলা শাখার সভাপতি মুফতি সিরাজুল ইসলাম, জেলা গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিয়াজী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল উদ্দিন চৌধুরী।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শফিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার, সহ-সভাপতি মাহবুবুর আনোয়ার বাবলু, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, সদস্য মাহবুবুর রহমান শাহীন, সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, ডিএম শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সেলিম উস সালাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার মাঝি এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন।



