
বাংলা রিডার ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর–হাইমচর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহম্মেদ বলেছেন, ক্ষমতার আগে জনতা এবং ভোগের আগে ত্যাগ—এই দর্শনেই তিনি রাজনীতি করবেন। এমপির পেছনে জনতা নয়, বরং জনতার পেছনে থেকেই এমপি কাজ করবে—এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, নির্বাচন অত্যাসন্ন এবং সবাই মিলে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নির্বাচিত হলে চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি। এর মধ্যে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে চাঁদপুর ও হাইমচরে দুটি ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল) স্থাপন অন্যতম। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়ন করে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়—আমরা সবাই বাংলাদেশি, এই বার্তাও দেন তিনি।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চাঁদপুর-হাইমচর সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, সকল সরকারি খাল উদ্ধার ও সংস্কারের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে।
নদীভাঙন রোধে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী শাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষ্ণুপুর থেকে জালিয়ারচর পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে একটি আধুনিক রিভার ড্রাইভ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তারেক রহমানের ঘোষণার আলোকে কৃষকদের জন্য শস্য বীমা চালু এবং সব পেশাজীবীর জন্য সরকারি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, চাঁদপুর-হাইমচরের সব সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট পাকাকরণের আওতায় আনা, যানজট নিরসনে পূর্বমুখী নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ঐতিহ্যবাহী ইচলীঘাটে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হবে।
মেঘনার পশ্চিম পাড়ের রাজরাজেশ্বর, ইব্রাহিমপুর ও নীলকমল ইউনিয়নকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুর-৩ আসনে একটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ ও প্রতিটি স্কুলে নিয়মিত খেলাধুলা ও আন্তঃপ্রতিযোগিতার আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের অঙ্গীকার করে শেখ ফরিদ আহম্মেদ বলেন, গণমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে। চাঁদপুর সদর ও হাইমচর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিতির মাধ্যমে জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হবে।
শেষে তিনি বলেন, তারেক রহমানের অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামীর বাংলাদেশ হবে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত, সবার জন্য উন্নত ও সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ।



