নির্বাচনী প্রচার যুদ্ধ শুরু, প্রার্থীরা যা করতে পারবেন

বাংলা রিডার ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার।

এবারই প্রথমবার পোস্টারবিহীন প্রচারে নামবেন প্রার্থীরা।

ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর ২৯৮ আসনে মোট প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ১,৯৭২ জন।

প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে নামছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষমতা নিয়ে নির্বাচনী তদন্ত কমিটিও সক্রিয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হবে।

প্রচারে যে নিয়ম মানতে হবে

নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটের প্রচারে ড্রোন ও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ। বিদেশে কোনো ধরনের প্রচারণাও করা যাবে না। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট এবং প্রস্থ ৯ ফুট। একই মঞ্চে সব প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিষিদ্ধ। ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুয়া তথ্য, কারো চেহারা বিকৃত করা, বানোয়াট বা উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করাও নিষিদ্ধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের আগে প্রার্থী বা তার এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নাম, আইডি ও ই-মেইলসহ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। সব কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করাও বাধ্যতামূলক।

আরও যেসব বিধিনিষেধ

  • কোনো দল বা প্রার্থী বিদেশে জনসভা, পথসভা বা প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

  • ভোটের দিন ও প্রচারকালীন সময়ে ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ।

  • ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে, তবে তাতে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদবি বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।

  • কেবল ডিজিটাল বিলবোর্ডে সীমিত আলো ব্যবহার করা যাবে; অতিরিক্ত আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ।

  • ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটে পলিথিন বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না; পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে।

  • শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।

  • অন্তর্বর্তী/তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা প্রার্থীর হয়ে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।

এছাড়া গণমাধ্যম সংলাপের পাশাপাশি সব প্রার্থীকে এক মঞ্চে তাদের ইশতেহার পাঠের সুযোগ রাখা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনে একদিনে এ আয়োজন করবেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী বলেন, “প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে। এখন নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করাই ইসির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

বিজ্ঞাপন

Recommended For You