হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারত ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ করছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলা রিডার ডেস্ক
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ যে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে, তার বিষয়ে ভারত এখনো ইতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, ভারত বিষয়টি “পরীক্ষা-নিরীক্ষা” করে দেখছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত। তাকে ফেরাতে ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাইনি। এ ধরনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। ভারত কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটি দেখছি। তাদের বক্তব্যে বুঝেছি তারা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।”

গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তারা ভারতে অবস্থান করছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “ওনার দেশে ফেরার বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকায় পৌঁছেছেন। আজ বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া যাচ্ছে না—এয়ারক্রাফটের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে।”

মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে বাংলাদেশি জেলে আটক হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আরাকান আর্মি কোনো রাষ্ট্রীয় শক্তি নয়, তাই তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্ভব নয়। তবে যেহেতু বিষয়টি আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট, আমরা তা গুরুত্বসহকারে দেখছি। সবকিছু প্রকাশ করা যায় না, তবে এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

ঢাকায় চীনের অর্থায়নে নির্মাণের পরিকল্পনা করা এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নীলফামারীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতালটি এমনভাবে পরিকল্পিত হচ্ছে যাতে রংপুর অঞ্চলের মানুষ ছাড়াও ভারত, ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষ চিকিৎসা পেতে পারে। রংপুরে শিল্পকারখানার অভাব থাকায় কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ—যা মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, “আমরা দেশকে এমন অবস্থায় রেখে যেতে চাই যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে পারেন। সব সংস্কার একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা যেন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন।”

চার দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে থাকা তৌহিদ হোসেন শুক্রবার রংপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। শনিবার সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিকেলে রংপুর ক্যাডেট কলেজ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের মাগুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে ঢাকায় ফিরবেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You