
বাংলা রিডার ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সকালে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয় এবং পরে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়।
কীভাবে মামুন আসামি থেকে রাজসাক্ষী হলেন
চলতি বছরের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি মামুনকে এ মামলায় আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন, যা ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করে। এরপর গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে জমা দেয়। ১ জুন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়।
১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিনই মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন। পরে তিনি নিজের দায় স্বীকারের পাশাপাশি আদালতে জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন এবং তিনি এ নির্দেশ পেয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে। (উল্লেখ্য, এসব বক্তব্য মামুনের জবানবন্দির অংশ, যা এখনও বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত।)
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলাগুলোর একটি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান–সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা। বিচারকাজ শুরু হয় ১৭ অক্টোবর, যেদিন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। অভিযোগগুলো হলো—
১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ (প্রসিকিউশনের দাবি)
আন্দোলনকারীদের দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ
রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ
রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ
আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ
এসব অভিযোগই রায়ের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়।


