কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন

বাংলা রিডার ডেস্ক
রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গুলিতে নিহত হয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তারিক সাঈফ মামুন (৫৬)। সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির এসএম ইকবাল হোসেনের ছেলে।

মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান, “আমার স্বামী বিএনপি সমর্থক ছিলেন এবং ব্যবসাও করতেন। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। পরে জানতে পারি তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। ঢাকা মেডিকেলে এসে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই।”

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, “বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে যাই। দেখি একজন ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

নিহতের খালাতো ভাই হাফিজ জানান, “মামুন একজন সাধারণ মানুষ। কেন, কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, আমরা জানি না। তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও ছিল না।”

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে দুইজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত এসে মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, “তারিক সাঈফ মামুন নামে এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি কুখ্যাত ‘ক্যাপ্টেন ইমন গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আজ আদালতে হাজিরা দিতে এসে বের হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত তারিক সাঈফ মামুন ছিলেন একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২৪ বছর কারাভোগের পর ২০২৩ সালে তিনি মুক্তি পান।

এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাতরাস্তা এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সে সময় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হন। নিহত মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You