মেঘনার পাড়ে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ

বাংলা রিডার ডেস্ক

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে আবারও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চলছে। এতে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগ ও ক্ষোভ সত্ত্বেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার দশানি, ষাটনল, নাছিরা কান্দি ও বোরচর এলাকায় প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, বালু ব্যবসায়ী কিবরিয়া মিয়াজি ও তার চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কাজে জড়িত। তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধে অতীতে একাধিক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু ঘটনায় মামলা এখনো বিচারাধীন।

দশানি গ্রামের বাসিন্দা মাজেদুর রহমান বলেন, “দিনরাত মেশিন দিয়ে বালু তোলে। নদীর পাড় ভেঙে আমাদের ফসলি জমি, বসতভিটা সব নদীতে চলে যাচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে আমরা রক্ষা পাব না।”

স্থানীয় রফিকুল ইসলাম বলেন, “বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো ফল পাইনি। মনে হয় প্রশাসনই বালু সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি।”

‘মাটি ও মানুষ’ নামে স্থানীয় একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের পরিচালক শামীম খান বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দিনের পর দিন ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এটা শুধু নদীভাঙনই নয়, আশপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে দিচ্ছে।”

মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী দাবি করেছেন, “মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অনুমোদিত জায়গা থেকে বালু তোলার কথা, কিন্তু যারা সীমা লঙ্ঘন করে তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশ তৎপর।”

মতলব উত্তর উপজেলার ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, “আমরা নিয়মিত নদীতে অভিযান চালাই। সীমান্ত এলাকায় কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি নজরে এসেছে। নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই যৌথ অভিযান চালানো হবে।” তিনি আরও বলেন, “বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাজারো মানুষ বিপদে পড়বে। যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞাপন

Recommended For You