চাঁদপুর উত্তর ইচলিতে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে শত্রুতা উদ্ধারের চেষ্টা

বাংলা রিডার ডেস্ক
চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর ইচলি গ্রামে ক্রয়কৃত সম্পত্তি থেকে প্রয়াত খালেক গাজীর সন্তানদের বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে তাদেরকে সামাজিকভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী বানিয়ে তাদেরকে প্রশাসনিকভাবে হেনস্তার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত খালেক গাজীর ছেলেরা জানান, তারা পৈতৃক সূত্রে ঢাকা ইসলামপুরে ব্যবসা করেন। তাদের পিতার ক্রয়কৃত পৌনে ৯ শতাংশ জমির দাগ নম্বর সংশোধনের জন্য ১৫ বছর যাবত মৃত রশিদ গাজীর ওয়ারিশদের কাছে ঘুরছেন। তারা নানা তালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করছেন।

প্রতিকার চেয়ে তারা ইতিমধ্যে চাঁদপুর আমলী আদালতে মামলাও করেছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষরা ফয়সালা মানতে রাজি হয়নি। উপরোন্তু মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে তাদেরকে হয়রানি করছেন।

সম্প্রতি প্রতিপক্ষরা মৃত রশিদ গাজীর ছেলের বউ নিলুফা বেগমের হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ পেচিয়ে আহত দেখিয়ে মিথ্যা ঘটনা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাঁদপুরের স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এতে তারা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত রুহুল আমিন গাজী জানান, ১৫ বছর পূর্বে তার পিতা খালেক গাজী তারই প্রতিবেশী রশিদ গাজীর কাছ থেকে ৮ শতাংশ ১৫ পয়েন্ট জমি খরিদ করেন। ওই জমি তাদের দখলে রয়েছে। রশিদ গাজী দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় তাতে দাগ নম্বর ৯০৮ ও ৯১২ উল্লেখ করেন। প্রকৃতপক্ষে তাদেরকে দখল দেয়া জমির প্রকৃত দাগ নম্বর ৯০৯ ও ৯১০। পরবর্তীতে দাগ নম্বর ভুল পরিলক্ষিত হলে খালেক গাজী সংশোধন করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু রশিদ গাজী কাল ক্ষেপণ করে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দেন। জমির চিন্তায় একসময় খালেক গাজী মারা যান।

পরবর্তী সময়ে মৃত খালেক গাজীর চার ছেলে ও চার মেয়ে সম্পত্তির ওয়ারিশদার হিসাবে একইভাবে দাগ নম্বর সংশোধন করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে আসেন। এরই মধ্যে জমি বিক্রেতা রশিদ গাজিও মারা যান।

একই ধরনের অনুরোধ করে আসছিলেন মৃত রশিদ গাজীর ছেলে সুবহান গাজী, রফিক গাজী ও মোস্তফা গাজীর কাছে। তারা সহযোগিতার বিপরীতে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তাদের জমিতে থাকা মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যান।

ক্ষতিগ্রস্ত রুহুল আমিন গাজী জানান, তার বৃদ্ধ মা ও প্রবাসী ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বাড়িতে বসবাস করেন। ব্যবসায়িক কাজে বেশিরভাগ সময়ই তারা ঢাকায় থাকেন। এই সুযোগে মৃত রশিদ গাজীর ছেলেরা তাদের মূল্যবান গাছপালা কেটে নিয়ে যান। বাধা দিতে গেলে তার বৃদ্ধ মা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে গালমন্দ এবং মারধর করতে তেড়ে আসেন। প্রাণনাশেরও হুমকি দেন। তাদের খরিদকৃত ও দখলীয় জমি অন্যত্র বিক্রি করবে বলে জানিয়ে দেন।

উপায়ান্তর না পেয়ে তারা আদালতে দলিল সংশোধন, ৭ ধারা এবং প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। যা বিচারাধীন।

এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত রুহুল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You