
বাংলা রিডার ডেস্ক
স্বামী মজিবুর রহমানের দায়ের করা যৌতুক মামলা নিয়ে অবশেষে কারাগারে যেতে হলো স্ত্রী কামরুন নাহারকে। চাঁদপুরের শাহরাস্তি আমলী আদালত ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কামরুন নাহার (৩২) তার স্বামী মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ২১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে তাকে আদালতে হাজির হতে সমন পাঠানো হলেও, তিনি হাজির হননি। এরপর ৫ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ কামরুন নাহারের অবস্থান সনাক্ত করে ৩ নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যায় তাকে শাহরাস্তির কালি বাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
পরে ৪ নভেম্বর, ২০২৫ আদালতে জামিন আবেদন করলেও, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় কুমার দে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুন কামরুন নাহারের সাথে মজিবুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হলেও, কামরুন নাহার তার স্বামীকে নগদ অর্থ, জমিজামা লিখে দেওয়ার জন্য এবং শহরে ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এর পর, তিনি স্বামী থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
মজিবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে এই ধরনের আচরণের জন্য একাধিক অভিযোগও উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুর বারের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা বলেন, “যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ ধারায় যদি কেউ যৌতুক দাবি করে, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আমরা এই আইনের আওতায় মামলা দায়ের করেছি এবং আদালত আমাদের মামলা গ্রহণ করেছে।”
এদিকে, শাহরাস্তির স্থানীয়রা কামরুন নাহারের আচরণে ক্ষুব্ধ। তারা জানান, কামরুন নাহার তার অতীতের তিনটি সংসার ভেঙে এখনো সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছেন।
চাঁদপুরের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, “বর্তমানে পুরুষ নির্যাতন একটি ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সমাজে অনেক পুরুষ প্রকাশ করতে পারছে না। কিন্তু মজিবুর রহমান আইনি পথে চলতে গিয়েই তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এজন্য তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।”
আদালতও প্রমাণ করেছে, আইন সবার জন্য সমান, এবং যে কেউই অপরাধের শিকার হলে আইনি সহায়তা পেতে পারেন।


