
বাংলা রিডার ডেস্ক:
গাজায় আটদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গাজার জায়তুন এলাকায় ট্যাংক থেকে ছোড়া গোলায় এক গাড়ির ভেতরে থাকা একই পরিবারের ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাত শিশু ও তিন নারী রয়েছেন।
স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, আবু শাবান নামের এক পরিবার বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি দেখতে যাওয়ার সময় তাদের বহনকারী বেসামরিক গাড়িতে সরাসরি গোলা আঘাত হানে। সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। পরিবারটিকে সতর্ক করা যেত, তাদের হত্যা করার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। এটি আবারও প্রমাণ করল, দখলদার বাহিনী বেসামরিক মানুষের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে।”
এ হামলাকে “নৃশংস গণহত্যা” হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস। তারা বলেছে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—ইসরায়েল যেন যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে বাধ্য হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে সেইসব ফিলিস্তিনিদের ওপর, যারা তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করেছিল—যেখানে তাদের পিছু হটার কথা ছিল যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে।
গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, “অনেক মানুষ এখনো ইন্টারনেটবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। ফলে তারা বুঝতে পারছেন না কোথায় ইসরায়েলি বাহিনী মোতায়েন আছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পড়ছে।”
বর্তমানে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সেনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় ‘হলুদ রেখা’ সীমারেখাগুলো শিগগিরই পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা হবে।
যদিও যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বন্দি বিনিময়ের প্রক্রিয়া চলমান, তবে এর মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ২৮ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশেও কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
এর আগে গত সপ্তাহেও গাজার শুজাইয়া এলাকায় পাঁচ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনারা।
হামাস দাবি করেছে, তারা এখনো যুদ্ধবিরতির সব শর্ত মেনে চলছে, যার মধ্যে ইসরায়েলি সেনাদের মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত।
এই হামলা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ না থাকলে শান্তিপ্রক্রিয়া আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।


