
বাংলা রিডার ডেস্ক:
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকায় সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং একজন এলপিআরে (অবসরের প্রক্রিয়ায়)। একজন কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, মোট ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। আদালত ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ তারিখে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরই সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করে। যদিও এখনো কোনো অফিসিয়াল চার্জশিট বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পায়নি, তারপরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটে ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জন অবসরে, ১ জন এলপিআরে এবং ১৫ জন কর্মরত। অবসরপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সেনা আইন প্রয়োগ করা যায় না বলে জানান তিনি।
এদের মধ্যে মেজর জেনারেল কবির নামের এক কর্মকর্তা ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। তিনি বলেন, “কবির সাহেব একজন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হন, এরপর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।” পরবর্তীতে তাকে ইলিগ্যাল অ্যাবসেন্ট ঘোষণা করে দেশের বাইরে পালাতে না পারেন—এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ডিজিএফআই, এনএসআই, বিজিবি এবং বিভিন্ন সীমান্ত ও বিমানবন্দরে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান আরও বলেন, “সেনাবাহিনী সব সময় দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা হেফাজতে নিই এবং প্রয়োজনে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিই।”


