
বাংলা রিডার ডেস্ক
আশুলিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গুলির শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন, পুলিশের একটি ভ্যানে লাশের স্তূপ পড়ে আছে। এ সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তাকে লাশগুলো ঢেকে দিতে বলা হয়।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ ১২তম সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি দেন রাশেদুল। মামলাটি গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে আশুলিয়ায় সাতজনকে হত্যার অভিযোগে করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনকে। এদের মধ্যে আটজন পলাতক।
সাক্ষ্যে কনস্টেবল রাশেদুল বলেন, “৫ আগস্ট আমি আশুলিয়া থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলাম। সেদিন ডিউটি না থাকলেও বিকেল চারটার দিকে থানার চারতলায় ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে জানালায় গিয়ে দেখি, নিচে মানুষের হইচই। নিরাপদ মনে না হওয়ায় নিচে নেমে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “নিচে এসে দেখি থানার মূল ফটকের পাশে একটি ভ্যানে লাশের স্তূপ। তখন সাবেক ওসি সায়েদ স্যার বলেন, ‘রাশেদ, আপনার হাত খালি আছে, লাশগুলো ঢেকে দিন।’ আমি পাশেই পড়ে থাকা নীল ব্যানার দিয়ে লাশগুলো ঢেকে দিই।”
এই সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওসি (তদন্ত) মাসুদুর রহমান, ওসি (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, এএসআই বিশ্বজিৎ, কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং ডিবি ইন্সপেক্টর আরাফাত হোসেন।
কনস্টেবল রাশেদুল জানান, “লাশগুলো ঢাকার পর আমি থানার পাশের একটি আটতলা ভবনের নিচে এক ঘণ্টা অবস্থান করি। সেখান থেকে একজনের কাছ থেকে পাঞ্জাবি ও টুপি নিয়ে রূপায়নের একটি বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিই।”
তিনি আরও বলেন, “পরে শুনি, ওই লাশগুলো পুলিশের গাড়িতে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যারা এমন কাজ করেছে, তারা অমানবিক কাজ করেছে।”
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পলাতক আট আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ও গ্রেপ্তার আসামিদের আইনজীবীরা রাশেদুলকে জেরা করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালুকদার, তারেক আবদুল্লাহ ও সুলতান মাহমুদ।
এ নিয়ে মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ হবে আগামীকাল বুধবার (৮ অক্টোবর)।
আজও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে আটজন গ্রেপ্তার আসামিকে। তারা হলেন—মো. আব্দুল্লাহিল কাফী (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ঢাকা), মো. শাহিদুল ইসলাম (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাভার সার্কেল), পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, কনস্টেবল মুকুল, আবজাল
তবে মামলার মূল আসামি সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনও পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় আশুলিয়ায় পুলিশের হেফাজতে হত্যাকাণ্ড, লাশ পোড়ানো ও গুমের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত ও বিচার কাজ চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ।


