গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের : হামাস সম্মত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে

বাংলা রিডার ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অবিলম্বে ইতি টানার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাকি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে রাজি হওয়ার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “হামাসের সর্বশেষ বিবৃতি আমাকে আশাবাদী করেছে যে তারা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য প্রস্তুত। এখন ইসরায়েলের উচিত গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করা, যাতে জিম্মিদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করা যায়। এই মুহূর্তে সেখানে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, যা শুধু গাজার নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে হামাস জানায়, তারা সব জীবিত ও মৃত ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে তারা গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়েও আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো দুই পক্ষ শান্তির এতটা কাছাকাছি এসেছে। এর আগে ইসরায়েলও ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস হঠাৎ করে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এর পরপরই ইসরায়েল পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে।

গত দুই বছরে ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। নিহতদের বড় অংশই নারী, শিশু ও সাধারণ বেসামরিক মানুষ।

হামাস বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু জিম্মিকে মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হেফাজতে প্রায় ৩৫ জন রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের চাপ, হামাসের প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি ট্রাম্প হামাসকে রোববারের মধ্যে তার প্রস্তাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “সময়ের মধ্যে সাড়া না এলে হামাসের ওপর নরক নেমে আসবে।” তার এই কঠোর বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামাস সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেয়।

তবে হামাস জানিয়েছে, চুক্তির বাকি শর্তগুলো ‘একীভূত ফিলিস্তিনি জাতীয় কাঠামো’র আলোকে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে। তাদের এই অবস্থান থেকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

সূত্র: এএফপি

বিজ্ঞাপন

Recommended For You