
বাংলা রিডার ডেস্ক
গাজার অবরুদ্ধ উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর লাগাতার বর্বর হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৯৮ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
২৪ ঘণ্টায় নিহত ৯৮, আহত ৩৮৫
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৯৮ জনের মরদেহ এবং ৩৮৫ জন আহতকে আনা হয়েছে।”
তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। অনেকেই এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম সীমিত থাকার কারণে তাদের পৌঁছানো যাচ্ছে না।
নিহত ৬৫ হাজার ৬২ জন, আহত ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫,০৬২ জন ফিলিস্তিনি, আর আহত হয়েছেন ১,৬৫,৬৯৭ জন। এই পরিসংখ্যানই তুলে ধরছে—গাজার জনগণের ওপর চলমান আগ্রাসনের ভয়াবহতা।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে হত্যাযজ্ঞ
গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরাইল ও হামাস। তবে ১৮ মার্চ সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এরপরের পাঁচ মাসে নিহত হয়েছেন ১২,৫১১ জন, আহত হয়েছেন ৫৩,৬৫৬ জন।
ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত ২,৫০০+, আহত ১৮,০০০+
গত মে মাস থেকে গাজায় ত্রাণ নিতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ২৭ মে প্রথমবার গুলির ঘটনায় শুরু হয় এই নির্মমতা। এখন পর্যন্ত নিহত ২,৫০৪ জন, আহত ১৮,৩৪৮ জন।
বুধবারও খাদ্য ও ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৭ জন।
ক্ষুধায় মৃত্যু, শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না
ইসরাইলি অবরোধে গাজায় তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। ২ মার্চ থেকে ত্রাণ সরবরাহ কঠোরভাবে সীমিত করেছে ইসরাইল,বুধবার ৪ জন অপুষ্টি ও খাদ্যাভাবে মারা গেছেন, গত দুই বছরে ৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে অপুষ্টিজনিত কারণে, যাদের মধ্যে ১৪৬ জন শিশু।
গাজায় চলমান গণহত্যার অভিযোগে ইতোমধ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এ মামলা হয়েছে। জাতিসংঘ ও বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার ইসরাইলকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানালেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
সংক্ষেপে: মোট নিহত: ৬৫,০৬২ জন, মোট আহত: ১,৬৫,৬৯৭ জন, ত্রাণ সংগ্রহে নিহত: ২,৫০৪ জন, অপুষ্টিতে মৃত্যু: ৪৩২ জন, যার মধ্যে ১৪৬ শিশু, যুদ্ধবিরতি ভেঙে ৫ মাসে নিহত: ১২,৫১১ জন।


