নেপালে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন মার্চে

বাংলা রিডার ডেস্ক
নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে দেশটির সংসদ। আগামী বছরের ৫ মার্চ নতুন নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সুপারিশের ভিত্তিতে। সংসদ ভাঙার ঘোষণাটি শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখরেল।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। স্থানীয় সময় রাত ৯টায় শপথ নেওয়ার পরই তিনি একটি সীমিত মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ হবে ছয় মাস, যার মূল দায়িত্ব আগামী নির্বাচনের আয়োজন।

সুশীলা কার্কি হচ্ছেন নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত আসে প্রেসিডেন্ট, সেনাবাহিনীর প্রধান এবং জেন-জেনারেশনের (Gen-Z) বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বৈঠকের পর। বৈঠকে সবাই তার নেতৃত্বে একমত হন।

নেপালের সাম্প্রতিক সংকটের সূচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন থেকে। গত সপ্তাহে বিক্ষোভ শুরু হলে সোমবার পার্লামেন্ট ভবনে ঢোকার চেষ্টা করে জেন-জি বিক্ষোভকারীরা। তখন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা।

পরদিন মঙ্গলবার পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। আন্দোলনের চাপ সহ্য করতে না পেরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং আত্মগোপনে চলে যান। ওইদিন বিক্ষোভকারীরা সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী ও একাধিক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালায়। এমনকি অর্থমন্ত্রীকে রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটে।

সুশীলা কার্কি ২০১৬-১৭ সালে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান এবং সততার জন্য তরুণদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “ভারত নেপালকে অনেক সহযোগিতা করেছে।”

উল্লেখযোগ্য: সংসদ ভাঙার পর আগামী নির্বাচন ২০২৬ সালের ৫ মার্চ। সুশীলা কার্কি ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে। তিনিই নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে জেন-জির আন্দোলন। আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের ঘটনায় রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয়।

সূত্র: এএফপি

বিজ্ঞাপন

Recommended For You