
বাংলা রিডার ডেস্ক
চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গত দুই সপ্তাহে ইলিশের আমদানি কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে ভরা মৌসুমেও এর প্রভাব পড়েনি বাজারদরে। আমদানি বাড়লেও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।
বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে মৌসুমে সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতাদের স্বস্তি ফেরেনি।
একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের সরবরাহ না থাকায় স্থানীয় পদ্মা-মেঘনার ইলিশ দিয়েই চলছে কেনাবেচা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ব্যবসায়ী ও মৎস্য সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অবতরণ কেন্দ্রের অধিকাংশ আড়তে খুচরা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা দরদাম করে মাছ কিনছেন।
পাইকারি বিক্রি তুলনামূলক কম। অধিকাংশ আড়তেই বড় সাইজের ইলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে।
আকবর আলীর আড়তের সামনে মেঘনা নদী থেকে আহরণ করা বেশ কিছু তাজা ইলিশ দেখা যায়। হাকডাকে এসব ইলিশের মণ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ওঠে। মাছগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম।
পাশের আড়তের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রচুর ইলিশ আসত। এখন তা খুবই কম। বর্তমানে চাঁদপুরের হাইমচর, চরভৈরবীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইলিশ বেশি আসছে। তার আড়তে এক কেজি ওজনের স্থানীয় ইলিশ ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে বন্ধুদের নিয়ে ইলিশ কিনতে আসা ফাহিম বলেন, এখানে বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দরদাম করছি, দাম পছন্দ হলে কিনব।
একাধিক মাছ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছর আগেও ইলিশের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেড় থেকে দুই হাজার মণ ইলিশ কেনাবেচা হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ মণে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম আশানুরূপ কমেনি।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, অন্য জেলা থেকে ইলিশের আমদানি নেই বললেই চলে। স্থানীয় ইলিশ দিয়েই কেনাবেচা চলছে। দুই সপ্তাহ আগে ইলিশের আমদানি আরও কম ছিল। এখন ভরা মৌসুম হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ আসছে। চাহিদা থাকায় দামও আগের মতোই রয়েছে।
চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। গত কয়েক বছরে জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হওয়ায় জেলেরা তুলনামূলক বড় সাইজের ইলিশ পাচ্ছেন। আগে ছোট সাইজের ইলিশের সংখ্যা বেশি ছিল।



