
বাংলা রিডার ডেস্ক
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সেদিন মামলার বাদী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়াকে জেরা করা হয়।
জেরা শেষে আদালত মামলার একমাত্র কারাবন্দি আসামি—রাজউকের সাবেক সদস্য (স্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে আগামী ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসানকে আসামি খুরশীদ আলমের পক্ষ থেকে জেরা অব্যাহত রয়েছে। অসমাপ্ত জেরার পরবর্তী তারিখও ১৭ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ জুলাই দুটি আদালতে পৃথক ছয় মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা এবং তাদের পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
দুদক চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্বাচল প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক ৬টি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনকে।
সব মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল হয়েছে। বর্তমানে প্রধান আসামিসহ বেশিরভাগ আসামি পলাতক, এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা অযথাযথ প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ২০৩ নম্বর রাস্তায় ৬টি প্লট বরাদ্দ নেন, যা আইনত বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা ছাড়াই অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।


