
বাংলা রিডার ডেস্ক:
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ ৬ নভেম্বর ২০২৫ চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সংযোগস্থলে মেঘনা–ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিতব্য চাঁদপুর–গজারিয়া সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, প্রকল্প পরিচালক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় সচিব গজারিয়ার ভবেরচর থেকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর পর্যন্ত প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্ট ও নদীশাসন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দিক—যেমন নদীর গভীরতা, স্রোতের গতি ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থা—সঠিকভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সচিব বলেন, “বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও ব্যয়–সাশ্রয়ী কানেক্টিভিটি গড়ে তোলা। এই সেতুটি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা চাঁদপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে।”
তিনি আরও জানান, সেতুটি নির্মাণ হলে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের চাপ কমবে এবং চাঁদপুর–লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্যপণ্য দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছাবে। এতে প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জীবনমান উন্নত হবে এবং এ অঞ্চল সরাসরি জাতীয় অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত হবে।
সচিব আশ্বাস দেন, জনগণের মতামত বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বমানের প্রকৌশল ও পরিবেশবান্ধব নকশা অনুসরণ করে সেতুটি নির্মিত হবে।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল্ড ডিজাইন) সম্পন্ন হয়েছে এবং ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলছে। মতলব উত্তরের সংযোগ সড়ক উন্নয়নে তিনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে সচিব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ক আলোচনা করেন এবং এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত সেতুটি হবে ১.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, চার লেনবিশিষ্ট ক্যাবল-স্টেইড সেতু, যার স্প্যানের দৈর্ঘ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ হবে।


