চাঁদপুরের বাজারে পচা ইলিশে সয়লাব

বাংলা রিডার ডেস্ক
মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ধরা বিপুল পরিমাণ ইলিশ এখন ভরে গেছে চাঁদপুরের বাজারে। গত তিন দিন ধরে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ বাজারে উঠছে এসব নরম ও পচা ইলিশ, ফলে পুরো এলাকায় ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।

ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় চুরি করে ধরা এসব মাছ দীর্ঘদিন বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করে এখন বাজারে আনা হচ্ছে। এতে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে “ইলিশের রাজধানী” হিসেবে চাঁদপুরের সুনাম। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী এমনকি সাংবাদিকদের ছবি তুলতেও বাধা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আড়তদার জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সময়ে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ট্রলারভর্তি ইলিশ এনে বাজারে তোলা হচ্ছে। এসব মাছ দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকায় মান খারাপ হয়ে গেছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, ভোক্তা অধিদফতরের অভিযানগুলোও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে “দেখানোর জন্য”— পচা মাছ চোখের সামনে থাকলেও সামান্য কিছু মাছ ধ্বংস করে বাকিগুলো বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে বড় স্টেশন মাছঘাটে অভিযান চালায় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান। তিনি জানান, বাজারে পচা মাছ বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। হাজী বাবুল জমাদারের আড়তে বিপুল পরিমাণ পচা ইলিশ পাওয়া যায়, যা খাওয়ার অনুপযোগী। এ কারণে তাকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং কিছু মাছ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী বাবুল জমাদার বলেন, “গরম পানিতে ধুয়ে এসব মাছ দিয়ে নোনা ইলিশ তৈরি করা হয়। যেগুলো পুরোপুরি পচে গেছে, সেগুলো আমরা ফেলে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এমন মাছ বিক্রি করবো না।”

জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার মানিক দাবি করেন, “বাজারে কিছু নরম মাছ থাকলেও বেশিরভাগই তাজা ইলিশ। অনেক সময় পরিবহনের চাপেই মাছ নরম হয়ে যায়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “পচা ইলিশ বিক্রির অভিযোগ আগেও পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে, তবে তাজা মাছের সঙ্গে নিম্নমানের পচা ইলিশ বিক্রি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You