সাব-জেল এখন কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে, সবকিছু চলবে কারাবিধি মেনে

বাংলা রিডার ডেস্ক
গুম, খুন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে সেনানিবাসে স্থাপিত ‘সাব-জেলে’, যা এখন থেকে সরাসরি কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাদের খাদ্য, সাক্ষাৎ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা চলবে কারাবিধি অনুযায়ী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এসব সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আদালতের আদেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হলে, পরে তাদের রাখা হয় সেনানিবাসের বাশার রোডে অবস্থিত অস্থায়ী ‘সাব-জেল’-এ।

আইজি প্রিজন জানান, “বন্দিদের নিরাপত্তায় কারা রক্ষী ও কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করা হয়েছে। খাবার ও সাক্ষাৎ—সবই কারাবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হলে, অনুমতি নিতে হবে এবং খাবার পাঠালেও তা পরীক্ষা করেই পৌঁছে দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম-খুন ও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলায় এই ১৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ মামলাগুলোর মধ্যে মোট ৩২ জন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ৯ জন অবসরে, একজন এলপিআরে এবং ১৫ জন কর্মরত অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে সেনা হেফাজতে থাকা এই ১৫ জনকেই আদালতের নির্দেশে ‘সাব-জেল’-এ পাঠানো হয়।

তালিকাভুক্ত ১৫ কর্মকর্তা হলেন:

র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন

কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন

কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে)

কর্নেল কে এম আজাদ

কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিক

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিক

মেজর জেনারেল শেখ মো. সারওয়ার হোসেন

বিজিবির সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম

মেজর রাফাত বিন আলম মুন

আদালত একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের খোঁজে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সেনাপরিবেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন অভিযুক্তদের অনেকেই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You