ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরে ৩০৬টি অভিযান, মোবাইল কোর্টে ৭০ জনের জেল

বাংলা রিডার ডেস্ক:
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের ২২ দিনের বিশেষ অভিযান চলাকালে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে টাস্কফোর্সের ৩০৬টি অভিযান ও ৪৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ৭০ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত চলা অভিযানে ৩২৯টি তল্লাশি অভিযান, ৫৩টি মামলা, এবং বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ করা হয়েছে।

এ সময় মোট ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৮০০ মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা।

অভিযানে মাছ ঘাটে ২৪৫ বার, আড়তে ১ হাজার ২৬ বার, অবতরণ কেন্দ্রে ১৬ বার এবং স্থানীয় বাজারে ৫২৪ বার পরিদর্শন করা হয়।

চলবে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান: জেলা প্রশাসক

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন এক সচেতনতামূলক সভায় বলেন, “মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো ২৪ ঘণ্টা টহলে থাকবে। আইন অমান্যকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যদি আমরা মা ইলিশ রক্ষা করি, তাহলে আগামীতে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে। সরকার ও প্রশাসন এ সময়ে জেলেদের পাশে থাকবে।”

চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও হাইমচর উপজেলায় অভিযান চলছে এবং তা ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

৪৫ হাজার জেলেকে চাল সহায়তা

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জীবিকা হারানো ৪৫ হাজার ৬১৫ জন নিবন্ধিত জেলেকে সরকার মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রতিজনকে ২৫ কেজি করে চাল দিয়েছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, ৪৩টি পৌরসভা ও ইউনিয়নের জন্য মোট ১,১৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চাল পরিবহনের জন্য ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে টনপ্রতি পরিবহন ব্যয় ২৫০ টাকা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বলেন, “পূজার ছুটির কারণে কিছুটা দেরি হলেও সবাই সহায়তা পেয়েছেন। প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে চাল বিতরণ শেষ হয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

Recommended For You