গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি

বাংলা রিডার ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ—২০২৪ সালের গণবিক্ষোভ দমনে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এতে অন্তত ১,৪০০ জন নিহত হন, আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং অনেক মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।
এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে, যা পরে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। ওই দিন ঢাকায় সেনা ও পুলিশের গুলিতে অন্তত ৫২ জন নিহত হন বলে অভিযোগ উঠে। এরপরই তার বিরুদ্ধে মামলা গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আদালত ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

প্রসিকিউটরদের দাবি, তাদের কাছে ফোন রেকর্ড, অডিও-ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য রয়েছে যা হাসিনার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে।
সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকার করেন, তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশেই বিক্ষোভ দমন অভিযানে হেলিকপ্টার ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেন।

প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন, “শেখ হাসিনা ১,৪০০ বার মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য। মানবিক কারণে আমরা অন্তত একটি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।”

শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) থেকে তারা আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন। রায় আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রমাণিত হলে শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টনের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।
এছাড়া, তিনি ইতোমধ্যেই আদালত অবমাননার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সাবেক এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি শেখ হাসিনার ভাগ্নি, তাকেও বাংলাদেশে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি আত্মীয়তাকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের জন্য জমির প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটিয়েছেন, যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হলেও, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You