
বাংলা রিডার ডেস্ক
গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীদের সবাইকে একযোগে বাদ না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “১০ লাখ ভোটকর্মীর মধ্যে সবাইকে বাদ দিতে গেলে পুরো কম্বলই উজাড় হয়ে যাবে। লোম বাছতে গিয়ে যেন পুরো কম্বল না যায়— এখন আমাদের অবস্থা এমনই।”
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নিয়ে নানা সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু ভালো-মন্দ তো সবখানেই থাকে। একদম সবাইকে বাদ দিয়ে দিলে বিশাল একটা শক্তি হারাতে হবে। আমরা কিছু রাখছি, তবে নজরদারির মধ্যে রাখছি।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ বিবেকবান। পরিস্থিতি বুঝে অনেকেই সঠিকভাবে কাজ করবেন। তবে আমরা তাদের ওপর কঠোর নজর রাখবো, যেন দলীয় পক্ষপাত দেখাতে না পারে।”
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের (বিশেষ করে নিচের স্তরের) মধ্যে প্রমোশন, বদলি বা ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ভয়ভীতির একটা প্রবণতা থাকে। তাই আমরা বিকল্প খুঁজছি— যেমন ব্যাংক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়োগের চিন্তা করছি।”
তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়েও অভিযোগ রয়েছে বলে জানান সিইসি। “রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ রয়েছে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবো।”
সিইসি আরও বলেন, “কারও অন্তরে রাজনৈতিক পক্ষপাত থাকলেও সেটা কাজে প্রতিফলিত হতে দেওয়া যাবে না। আগে যেভাবে একপক্ষকে সহায়তা করে রাতের ভোট হয়েছে, এখন সেটা আর হবে না। আমরা সবাইকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি— কোনো পক্ষপাত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়, এটা একটি জাতীয় দায়িত্ব। তাই যেসব কর্মকর্তা ভোটগ্রহণে থাকবেন, তাদেরও সেই দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে।”
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, ইসি কর্মকর্তা ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।



