
বাংলা রিডার ডেস্ক
গাজার জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দেওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। ইসরায়েলি নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে, বাংলাদেশ অবিলম্বে ফ্লোটিলায় থাকা সকল মানবিক সহায়তাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সংহতির প্রতীক ছিল এই মানবিক ফ্লোটিলা। ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় সহায়তা পৌঁছাতে বাধা না দিয়ে অবরোধ তুলে নিতে হবে।”
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যা বন্ধ করতে হবে, এবং অবিলম্বে মানবিক অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ গাজাবাসীর পাশে অটল সংহতি প্রকাশ করেছে বলেও জানানো হয়।
গাজার অবরুদ্ধ অবস্থায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে সম্প্রতি ৪৪টি বেসামরিক নৌযান ও প্রায় ৫০০ অধিকারকর্মী নিয়ে ইতালির উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’। তবে ১ অক্টোবর রাতে ইসরায়েলি বাহিনী বহরে হস্তক্ষেপ শুরু করে এবং একে একে ফ্লোটিলার নৌযানগুলো আটক করে অংশগ্রহণকারীদের ইসরায়েলে নিয়ে যায়।
পরদিন (২ অক্টোবর) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, “একটি বাদে সব নৌযান আটক করা হয়েছে।”
আটকদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আদা কোলাউ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান।
২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটিকে কঠোরভাবে অবরুদ্ধ রেখেছে ইসরায়েল। এতে গাজার প্রায় ২৩ লাখ মানুষ কার্যত এক বন্দিশিবিরে বসবাস করছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হন, এবং দেখা দেয় তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
বাংলাদেশের বিবৃতিটি এই পটভূমিতে এক সুস্পষ্ট বার্তা দেয়— মানবিক সহায়তায় বাধা নয়, বরং বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত গাজা উপত্যকার জনগণের পাশে দাঁড়ানো।



