চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জোরালো

বাংলা রিডার ডেস্ক
চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটাতে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে শুধুমাত্র মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেন চলাচল করছে। তবে ট্রেন দুটির অবস্থা একেবারেই জরাজীর্ণ। ভাঙাচোরা কোচ, নষ্ট ফ্যান-লাইট এবং যাত্রী সেবার ঘাটতিতে প্রায়ই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো যাত্রীকে।

এই বাস্তবতায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিসি বলেন—“রেলপথ সচিব বরাবর নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

তিনি জানান, এই রুটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী অফিস, ব্যবসা, চিকিৎসা ও পারিবারিক কারণে যাতায়াত করে। অথচ বর্তমানে চালু থাকা দুটি ট্রেন যাত্রীচাহিদার তুলনায় অনেকটাই অপ্রতুল।

এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা নতুন ট্রেন চালুর দাবিতে একমত হয়েছেন।

নজরুল ইসলাম খান, চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন, তিনি বলেন: “দুইটি ট্রেনই পুরনো ও জরাজীর্ণ। রেল ভ্রমণ আরামদায়ক হলেও ট্রেনের অবস্থা এমন যে, চড়ার ইচ্ছাও হয় না। তবু নিরুপায় হয়ে যাতায়াত করি।”

তাজুল ইসলাম সুমন, শাহরাস্তির ব্যবসায়ী, বলেন: “বৃটিশ আমলের মেয়াদোত্তীর্ণ কোচ দিয়ে এখনো চলানো হচ্ছে এই ট্রেনগুলো। যাত্রী সেবার মান বলতে কিছু নেই।”

চৌধুরী ইয়াছিন ইকরাম, আইনজীবী, বলেন: “মেঘনা এক্সপ্রেসে হকারদের উৎপাত, আর সাগরিকা এক্সপ্রেস লোকাল ট্রেনের মতো। নতুন ট্রেন হলে চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো।”

অহিদুর রহমান খান উৎপল, চাঁদপুর শহরের ব্যবসায়ী: “এখন সময় এসেছে তৃতীয় একটি ট্রেন দেওয়ার। ঢাকা-কক্সবাজার রুটের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ট্রেনের সময় নির্ধারণ করলে পর্যটকদের জন্যও এটি উপকারী হবে।”

মহিউদ্দিন আল-আজাদ, হাজীগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী:“এসি কোচ ও নতুন ট্রেন খুব জরুরি। যাত্রী সংখ্যা এত বেশি যে, প্রায়ই দাঁড়িয়ে যেতে হয়। স্পেশাল ট্রেন চালু করা এখন সময়ের দাবি।”

জেলা প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী—সড়কপথে যোগাযোগ ততটা উন্নত নয়। নৌরুটেও কার্যকর কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চট্টগ্রামে পাড়ি জমাচ্ছে। বর্তমান দুটি ট্রেনেই যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। ট্রেনগুলোর ওয়াশরুম, লাইট, ফ্যান, চেয়ার—সবই একেবারে নষ্টপ্রায়।

“রেলপথ সংস্কার ও একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন এখন অত্যন্ত জরুরি,” বলেন জেলা প্রশাসক। চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে রেলসেবা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। রুটটির গুরুত্ব, যাত্রীচাহিদা ও যোগাযোগ ঘাটতি বিবেচনায় দ্রুতই নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এখন একবাক্যে বলছেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You