
বাংলা রিডার ডেস্ক
দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রধান কেন্দ্র—এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ Khandaker Mosharraf Hossain-এর নাম অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী Bangladesh Liberation War থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতা, অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশ একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছে। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার মানুষের সাহসিকতার ফলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-কে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। তবে বিগত শাসনামলে সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে সংগ্রাম করলেও এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেখে যেতে পারেননি—এ কারণে তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।” ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে বড় করে দেখাই বিএনপির মূল দর্শন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও সংসদে দেশের সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভিন্নতা থাকলেও একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সবার জন্যই অভিন্ন হওয়া উচিত। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগের সরকারের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সাবেক স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই পাওয়া যায়নি—তাদের কেউ কারাগারে, কেউ পলাতক।
সভাপতিত্বের বিষয়ে তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী Sheikh Mujibur Rahman সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য Maulana Abdul Rashid Tarkabagish-এর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেই বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।



