চাঁদপুরে মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে ৮১৫ কোটি টাকার বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে

বাংলা রিডার ডেস্ক
চাঁদপুর শহরকে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রায় ৮১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৩ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হলেও অর্থ সংকটে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৪ সালের শুরুতে নতুন করে শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং কাজ শুরু হয়।

জানা গেছে, পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় বড় স্টেশন মোলহেড থেকে পুরান বাজার বাণিজ্যিক এলাকা হয়ে হরিসভা পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে এবং পানি কমার সময় এসব এলাকায় প্রায়ই বাঁধে ফাটল ও ভাঙন দেখা দেয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা নির্মাণকাজে দুর্নীতি না করার দাবি জানিয়েছেন। হরিসভা এলাকার বাসিন্দা সবিতা রানী জানান, তিনি তিনবার মেঘনার ভাঙনে সবকিছু হারিয়েছেন এবং বর্তমানে রাস্তার পাশে বসবাস করছেন। তার দাবি, যেন সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং কাজে কোনো অনিয়ম না থাকে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মর্জিনা বেগম বলেন, বর্ষা এলেই ভাঙনের আতঙ্কে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বাঁধ নির্মাণ শেষ হলে এলাকাবাসীর স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পুরান বাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে থেকে এ এলাকায় মেঘনার ভাঙন শুরু হয়। এক সময় তাদের বসতি কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে ছিল। এখন সঠিকভাবে ব্লক বসানো হলে আবার বসবাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক পরিবার ছিন্নমূল হয়ে পড়েছে। এমনই একজন প্রায় ৭০ বছর বয়সী ভুলু ঋষি জানান, নদীভাঙনে তিনি সব হারিয়েছেন এবং এখন সড়কের পাশে বসবাস করছেন। প্রয়োজনে বাঁধ নির্মাণের জন্য সরে যেতে রাজি থাকলেও ছিন্নমূল মানুষের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

প্রকল্পের আওতায় ১৯টি প্যাকেজে কাজ চলছে। প্রথমে জিও-টেক্সটাইল ব্যাগ ডাম্পিং শেষ করে এখন ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে। ব্লক তৈরিতে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিদেশ থেকে আনা অটোমেটিক মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরান বাজারের জাফরাবাদ এলাকায় এই মেশিনে ব্লক তৈরি হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সুদীপ্ত গুণ জানান, অটোমেটিক মেশিন ব্যবহারের ফলে ব্লকগুলো আরও নিখুঁতভাবে তৈরি হচ্ছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মানদণ্ডও পূরণ হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ নিয়মিতভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চাঁদপুর শহরের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।

বাঁধের ওপর বসবাসরত ছিন্নমূল পরিবারগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, পুরান বাজার এলাকায় কয়েকটি পরিবার বাঁধের ওপর বসবাস করছে। প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে চালাতে তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You