যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ‘ভয়ঙ্কর’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

বাংলা রিডার ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যে কোনো মাত্রার হামলা চালালে তার ‘ভয়ঙ্কর’ জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত আঘাত হানার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছেন—এমন খবরের পর সোমবার এ হুঁশিয়ারি দেয় ইরান

বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হতে যাওয়া পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে তেহরানে সীমিত হামলার বিকল্প খোলা রয়েছে।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমিত হামলাসহ যেকোনো আঘাতই স্পষ্টভাবে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তেহরানে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেবে ইরান।

ওমান-এর মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ড-এ দুই দেশের দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ইরান ও ওমান জানিয়েছে, পরবর্তী বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।

এদিকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, অঞ্চলটিতে নতুন করে যুদ্ধের প্রয়োজন নেই; বরং আলোচনার সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।

ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনায় কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই কথা হবে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, তেহরানের লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি—যা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইরান।

ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েনের পরও ইরান কেন ‘আত্মসমর্পণ’ করছে না—তা নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প। এর জবাবে বাঘায়ি বলেন, ইরানিরা ইতিহাসে কখনও আত্মসমর্পণ করেনি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় দেশটিতে উদ্বেগ বাড়ছে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজ নাগরিকদের ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং সর্বশেষ ভারত

সূত্র: এএফপি।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You