প্লট দুর্নীতি মামলা: হাসিনা ১০, টিউলিপ ৪, রাদওয়ান ও আজমিনার ৭ বছর কারাদণ্ড

বাংলা রিডার ডেস্ক
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ৪ বছর এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অন্যান্য আসামিদেরও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৫ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে শেখ হাসিনা তার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ দেন। একই সঙ্গে শেখ রেহানার আরেক মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের নাম উঠে আসে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান ও আজমিনার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ প্রথমে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আরও দুজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর সড়ক এলাকায় শেখ হাসিনা, তার সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের নামে ১০ কাঠা করে একাধিক প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাদওয়ানের প্লট নম্বর ১১ এবং আজমিনার প্লট নম্বর ১৯।

রাদওয়ানের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন তিনি নিজেই। এ মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। একইভাবে আজমিনার প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত মামলাতেও ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রাদওয়ানের মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের সাবেক ও বর্তমান একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আজমিনার মামলাতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রাজউকের কর্মকর্তারা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You