
বাংলা রিডার ডেস্ক
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আবারও কুকুরের কামড়ে ব্যবহৃত জলাতঙ্ক (র্যাবিস) ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ভুক্তভোগী রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এবং বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ বহন করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিনের কোনো মজুত নেই। প্রায় দুই মাস ধরে চলমান এই সংকটে কুকুরের কামড়ে আহত রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
প্রতিদিন শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুরের কামড়ে আহত মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলেও ভ্যাকসিন না থাকায় তাদের বাইরে থেকে কিনে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের ক্ষেত্রে ৪–৫ জন মিলে অর্থ সংগ্রহ করে একটি ভ্যাকসিন কেনার ঘটনাও ঘটছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়ার কথা থাকলেও তা না থাকায় বেসরকারি ফার্মেসি ও ক্লিনিক থেকে কয়েকগুণ বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, চলতি ২০২৫ সালের মধ্যেও নতুন করে ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো র্যাবিস ভ্যাকসিন না পেলে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। যেহেতু জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ, তাই সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিনের এই ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ভুক্তভোগী রোগী ও সচেতন মহল দ্রুত চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে যে কোনো সময় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।



