ডাকসু নির্বাচন: ৯৩ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ, সময় বাড়ানো নিয়ে বিরোধ

বাংলা রিডার ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময়সীমার শেষ দিনে, মঙ্গলবার, আরও ৯৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর ফলে বিভিন্ন পদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৮ জনে। তবে হলভিত্তিক প্রার্থীদের তথ্য এখনও হালনাগাদ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার শেষ দিন ছিল ১৮ আগস্ট। কিন্তু রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে সময়সীমা একদিন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ফলে আজ ছিল মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমার অতিরিক্ত দিন।

তবে সময় বাড়ানো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বেশিরভাগ সক্রিয় ছাত্রসংগঠন এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলছে, এটি একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দিতেই করা হয়েছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “ছাত্রদলের সুবিধার্থেই সময় একদিন বাড়ানো হয়েছে। কারণ তাদের প্যানেল এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তারা নিজেরাই তা বলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জন্য সময় বাড়িয়েছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদও একই অভিযোগ করেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি বলেন, “পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই একদিন সময় বাড়ানো পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত। এতে অন্য প্রার্থীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন।”

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নির্ধারিত তফশিল ভেঙে মনোনয়ন সংগ্রহের সময় বাড়ানোয় নির্বাচনের সময়মতো অনুষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া ও ভিড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন বিতরণ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আমরা শুধুমাত্র একদিন সময় বাড়িয়েছি, যাতে নির্বাচন আরও অংশগ্রহণমূলক হয়।”

এছাড়া, তিনি আরও জানান, শামসুন নাহার হলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেত্রীকে মনোনয়নপত্র তুলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়া নিয়ে এখন বাড়ছে উদ্বেগ, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You