
বাংলা রিডার ডেস্ক
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনার নদীসীমায় চলছে ২২ দিনের বিশেষ অভিযান। ৪ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত চালানো এই অভিযানে জেলা টাস্কফোর্স পরিচালনা করেছে ২৬১টি অভিযান এবং ৩৬টি মোবাইল কোর্ট, দায়ের করা হয়েছে ৪৫টি মামলা। আইন অমান্য করায় ৬৪ জন জেলেকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য বিভাগের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, জব্দ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
পরিদর্শন করা হয়েছে: ১৯২টি মাছঘাট, ৮৬৩ বার আড়ৎ, ১৩টি অবতরণ কেন্দ্র ও ৪৫৩ বার স্থানীয় বাজার। অভিযানে সহায়তা করেছে: নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী।
চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য অফিস।
জেলা প্রশাসকের হুঁশিয়ারি
মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতামূলক এক সভায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “আইন ভঙ্গকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নদীতে ২৪ ঘণ্টা টহল থাকবে। অভিযানে সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এখন মা ইলিশ রক্ষা করতে পারলে ভবিষ্যতে নদীতে মাছের পরিমাণ অনেক বেশি বাড়বে, যার সুফল জেলেরা নিজেরাই পাবেন।
৪৫ হাজার জেলেকে মানবিক সহায়তা
নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা ৪৫ হাজার ৬১৫ জন নিবন্ধিত জেলেকে সরকার ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা হিসেবে দিয়েছে।
এজন্য জেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ১,১৪০ মেট্রিক টন চাল এবং পরিবহন খরচ বাবদ ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ জানান, “প্রত্যেক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত
৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা ও পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা, জেল ও জাল ধ্বংসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চাঁদপুরে প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ৪৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত জেলে ইলিশ আহরণে নিয়োজিত থাকেন।



