অপ্রতিম হত্যায় তিন আসামির দায় স্বীকার

বাংলা রিডার ডেস্ক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির কাছে জবানবন্দি দেন তারা।

কুমিল্লার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬), কামরুল হাসান (১৫) এবং মো. সিয়ামকে (১৫) রোববার বিকেলে আদালতে তোলা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তুহিন, ফাহাদ এবং কামরুল। গ্রেপ্তার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি।

এদিকে আইনি সকল প্রক্রিয়া শেষ করে রাত ৯টার দিকে আদালত থেকে কারাগারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় সকল আসামিকে। রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান।

কুমিল্লা কোর্ট থানা পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে রাত ৯টার দিকে চারজনকো কারাগারে নেওয়া হয়েছে। দায় স্বীকার করে ৩জন জবানবন্দি দিয়েছেন। সিয়াম দায় স্বীকার করেনি। কোনো আসামির রিমাণ্ডও চাওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান সে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিলিং মিশনে অংশ নেন চারজন। সবাইকে শনাক্ত করে আটক করেছে পুলিশ। পরে অপ্রতিমের বাবার দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You