মেঘনার তীর দখল করে গড়ে উঠছে দুটি বাণিজ্যিক হোটেল

বাংলা রিডার ডেস্ক
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ও সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দুটি বাণিজ্যিক হোটেল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার অনুমতি ছাড়াই নদীতীরে আগে ‘জলবিলাস’ নামে একটি হোটেল চালু করা হয়েছে। বর্তমানে একই এলাকায় ‘হাওয়া বদল’ নামে আরও একটি বড় বাণিজ্যিক স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে গ্যাংওয়ের দক্ষিণ পাশে ‘জলবিলাস’ হোটেলটি চালু হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও নদীতীর দখল করে স্থাপনাটি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে গ্যাংওয়ের উত্তর পাশে নদীর তীর ঘেঁষে ‘হাওয়া বদল’ নামে নতুন একটি রিসোর্টধর্মী হোটেলের নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

স্থানীয় অটোরিকশাচালক, মোটরসাইকেল চালক ও হকারদের ভাষ্য, ‘জলবিলাস’ শুরু থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে হোটেলটি নির্মাণে কোনো সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি তারা জানেন না। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘জলবিলাস’ হোটেলে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। কর্মচারীরাও মালিকদের যোগাযোগের তথ্য দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ‘হাওয়া বদল’ প্রকল্পটিও নদীর জায়গা দখল করেই নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম দেওয়ান বলেন, তিনি শুধু নির্মাণকাজ দেখভাল করছেন। কাগজপত্র ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো দেখছেন ইঞ্জিনিয়ার আল-আমিন ও অ্যাডভোকেট ইমরান।

হোটেলটির অংশীদার অ্যাডভোকেট আল-আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিটি তাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি এবং নদীর কোনো অংশ দখল করা হয়নি। প্রয়োজনীয় বৈধতার জন্য কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার জানান, ‘জলবিলাস’ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি। তবে ‘হাওয়া বদল’ ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে, যদিও এখনো লাইসেন্স ইস্যু করা হয়নি।

অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, দুটি হোটেলের কোনোটির জন্যই তারা অনুমতি দেয়নি। চাঁদপুরের বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। এ দুটি প্রকল্পের জন্য বিআইডব্লিউটিএর কাছে কোনো আবেদনও করা হয়নি। প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You