
বাংলা রিডার ডেস্ক:
ব্যাপক বিমান হামলায় লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের চালানো এ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৫ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ক্রমাগত এই হামলার ফলে দেশটির অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রস বলেছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের হামলা ‘বিধ্বংসী’ এবং তারা এতে ‘ক্ষুব্ধ’। সংস্থাটির লেবানন প্রধান অ্যাগনেস ধুর জানান, কোনো কার্যকর পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ব্যস্ত জনপদ, বিশেষ করে বৈরুতে ভারী বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বহু মানুষ যারা ঘরে ফেরার আশা করছিল, তারা এখন রাস্তায় ও হাসপাতালে ছুটছে।
হামলার সময় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করা শেষ সেতুটিও ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল। এটি লিতানি নদীর ওপর অবস্থিত ছিল। এর ফলে নদীর দক্ষিণের এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলকে ‘বাফার জোন’ হিসেবে নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। সেখানে হাসপাতাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। ফলে হাজারও বেসামরিক মানুষ খাদ্য ও ওষুধ সংকটে ভুগছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। নতুন হামলার পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর এটি তাদের প্রথম বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া।
সূত্র: আল-জাজিরা



