
বাংলা রিডার ডেস্ক
ইরান সংঘাতকে ঘিরে মোতায়েন করা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যান্ত্রিক ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে জাহাজটির যুদ্ধ-অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন নির্দেশে গ্রিসের সৌদা উপসাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালেও সাম্প্রতিক সমস্যার কারণে এটি এখন গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ফিরে যাচ্ছে। Agence France-Presse (এএফপি)-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড সেখানে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তী সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে গত ১২ মার্চ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের লন্ড্রি বিভাগে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত দুই নাবিক আহত হন এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি জাহাজটির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অধিকাংশ ওয়াশরুম অচল হয়ে পড়ে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা সমাধানে জাহাজটিকে ডকইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, একটি বিমানবাহী রণতরী টানা ছয় মাসের বেশি সাগরে মোতায়েন থাকার কথা নয়। অথচ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড প্রায় নয় মাস ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে, ফলে নাবিকদের ক্লান্তিও বেড়েছে।
সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে জাহাজটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিট দ্বীপে পৌঁছে মার্কিন ঘাঁটিতে এর প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
সূত্র : এএফপি



