নায়করাজ—অগ্রজ-অনুজের কাছে আজও গর্ব ও অনুপ্রেরণার নাম

বাংলা রিডার ডেস্ক

জীবনভর রুপালি পর্দায় অগণিত চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরলেও, ‘অনন্ত প্রেম’ সিনেমার নায়ক অনন্তের মতোই তিনি রয়ে গেছেন অমর। কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়ে আজও নিভে যায়নি তার দীপ্তি। তাই তো চলচ্চিত্রাঙ্গনের অগ্রজ ও অনুজ—সবার কাছেই তার নাম গর্ব আর অনুপ্রেরণার প্রতীক। তিনি ঢাকাই সিনেমার অবিসংবাদিত নায়করাজ রাজ্জাক।

কখনো রোমান্টিক নায়ক, কখনো দায়িত্বশীল পিতা, আবার কখনো সংগ্রামী যোদ্ধা—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ছিলেন অনন্য। অভিনয়ের শক্তিতেই সাধারণ মানুষ থেকে হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি, নায়ক থেকে পেয়েছেন ‘নায়করাজ’ উপাধি। বাংলা চলচ্চিত্রের এই মধ্যমণি ও মহানায়ক-এর জন্মদিন শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি)।

১৯৪২ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন আবদুর রাজ্জাক। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৮৮ বছরে পা দিতেন। ‘নায়করাজ’ নামে পরিচিত হলেও তার পারিবারিক নাম ছিল আবদুর রাজ্জাক। ১৯৬৪ সালে কলকাতা থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এসে চলচ্চিত্রে নিজের পথচলা শুরু করেন তিনি।

চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের অভিষেক হয় ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমার মাধ্যমে। নায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে জহির রায়হানের পরিচালনায় ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে, সুচন্দার বিপরীতে। এরপর অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনা—তিন ক্ষেত্রেই একটানা সাফল্যের সঙ্গে দাপটের সঙ্গে কাজ করে গেছেন তিনি।

‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ছুটির ঘণ্টা’সহ বাংলা ও উর্দু ভাষার মোট ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নায়করাজ। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি রাজ্জাক পরিচালনা করেছেন ১৬টি চলচ্চিত্র। তিনি গড়ে তোলেন রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন হাউজ। প্রযোজক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ‘রংবাজ’ সিনেমার মাধ্যমে। পরবর্তীতে আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৬২ সালে খায়রুন নেসা (লক্ষ্মী)-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাজ্জাক। তাদের সংসারে জন্ম নেন পাঁচ সন্তান—রেজাউল করিম (বাপ্পারাজ), খালিদ হোসেন (সম্রাট), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসেন বাপ্পি ও আফরিন আলম ময়না।

দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে তিনি ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচবার। ২০১৩ সালে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা। এছাড়াও বাচসাস, মেরিল-প্রথম আলোসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হন এই কিংবদন্তি।

২০১৭ সালের ২১ আগস্ট, ৭৫ বছর বয়সে সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অবিসংবাদিত রাজা। তবে পর্দার বাইরে চলে গেলেও, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নায়করাজ রাজ্জাক চিরকাল বেঁচে থাকবেন গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You