ইসলামী ব্যাংকে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অনীহা: ২০০ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ওএসডি ৫ হাজার

বাংলা রিডার ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-গোষ্ঠী-সমর্থিত ২০০ জন কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং প্রায় ৪,৯৭১ জনকে অফিস-স্টাফ-ডিউটি (ওএসডি) করা হয়েছে, কারণ তারা ব্যাংকের আয়োজিত মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেননি।

২০১৭ সালে, একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ অভিযুক্ত হয় ইসলামী ব্যাংক দখল করার ব্যাপারে। এই সময়েই দাবি ওঠে যে, ব্যাংকে নিয়োগকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল — অনেক নিয়োগ হয়েছে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া, পরীক্ষা ছাড়া, এমনকি জাল সনদ ও বায়োডাটা ব্যবহার করে। বিশেষ করে নিয়োগ বিতরণে দিকবিভাজন দেখা গিয়েছিল — অধিকাংশ নিয়োগ হয় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, বিশেষ করে পটিয়া থেকে।

এস আলমের সময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ার অপচ্ছন্নতা ও অস্বচ্ছতা প্রসঙ্গে অভিযোগ ছিল যে, দেশের বহু জেলার প্রার্থীদের বিয়ুক্ত করার সুযোগ ছিল না। নিয়োগপ্রক্রিয়ার অবাধ সৃষ্টির ফলে ব্যাংকের শৃঙ্খলা ও গ্রাহক সেবার মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিমত রয়েছে।

২০১৬ সালের শেষে ব্যাংকের জনবল ছিল ১৩,৫৬৯ জন। আজকের দিনে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২২,০০০ জন হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১১,০০০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। এই বিশাল জনবল ও অতির্ভরতা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জরুরি প্রয়োজন সৃষ্টি করেছিল।

সেই প্রেক্ষাপটে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)-এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক “বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা” আয়োজন করে। তবে এই পরীক্ষায় মাত্র ৪১৪ জনই অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা না দেওয়ার কারণ হিসেবে অনেকে নিরাপত্তাহীনতা বা ‘ধরা পড়ার ভয়’কে উল্লেখ করেছেন।

পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে, প্রায় ২০০ জনকে বরখাস্ত করা হয় এবং ৪,৯৭১ জন অফিসে স্টাফ ডিউটি (ওএসডি) করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন জসিম বলেন, “যারা পরীক্ষায় অংশ নেননি, তাদের ওএসডি করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে প্রায় ২০০ জনকে নির্ভরতা (termination) দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি তিন মাসের বেতন দিয়ে কাউকে বন্দী রাখতে পারে। তবে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করছি।”

তিনি আরও জানান যে, এস আলম আমলের প্রায় ১১,০০০ নিয়োগের মধ্যে ১০,০০০ এখনও ব্যাংকে আছেন, যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল অস্বচ্ছ ও বেআইনি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এসব নিয়োগ করা হয়েছিল।

বলা হয়েছে, যারা ওএসডি হয়েছেন, তাদের বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে।

এ কারণে কিছু কর্মকর্তা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয় এবং ইসলামী ব্যাংক ও রিটকারী পক্ষকে এই নির্দেশ পৌঁছাতে বলে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কর্মীদের নিয়োগ, অপসারণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে স্বাধীন অধিকার রাখে, যদি তা দেশের আইন ও বিধিবিধান মেনে করা হয়। তারা দাবি করেছে, মূল্যায়ন পরীক্ষা আয়োজন ও ফয়সালা নিতে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You