
বাংলা রিডার ডেস্ক
ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি প্রস্তাব তারা পেয়েছে। বুধবার দেশটির জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের অবসান নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনার ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্ক-এর নাম বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে মার্কিন প্রস্তাব গ্রহণ সেই প্রক্রিয়ারই একটি ইঙ্গিত।
তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত বা এটি পূর্বে আলোচিত ১৫ দফার মার্কিন পরিকল্পনার অংশ কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি ইরানি সূত্র। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কও মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখছে এবং সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে দুই দেশই বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রস্তাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু-এর নিরাপত্তা পরিষদকে এ প্রস্তাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করা।
অন্যদিকে, পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিকল্প খোলা রাখতে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন মেরিন বাহিনীর দুটি ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান চলতি সপ্তাহেই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আলোচনার আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। তুরস্কও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রকাশ্যে এখনো কোনো আলোচনায় সম্মতি দেয়নি তেহরান। বরং দেশটির সামরিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব কঠোর ভাষায় আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে যাচ্ছে।
ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনি কি এখন নিজের সঙ্গেই আলোচনা করছেন?” তিনি আরও বলেন, “আমরা কখনোই আপনাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাব না।”
এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর সময়ই পরমাণু আলোচনা চলছিল, যা কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকে বিশ্বাস করার মতো কোনো ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান এসব শর্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে তারা সন্দিহান। আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কিছু ছাড় দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে তেল আবিব।



