
বাংলা রিডার ডেস্ক
মালয়েশিয়াসহ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্ধ শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি থাইল্যান্ডসহ নতুন দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানির জটিলতা দূর করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে কিছু দেশে নির্দিষ্ট কোম্পানির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার নির্ধারিত ব্যয় কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট ব্যয় নির্ধারণ করা হলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হবে এবং সিন্ডিকেট ভাঙা সহজ হবে। তিনি বলেন, এতদিন চাহিদা অনুযায়ী কর্মী পাঠানো হলেও একচেটিয়া ব্যবসার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্রিয় রয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না; বরং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়তে পারে। এজন্য কর্মীদের ভাষা দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপানে কর্মী পাঠাতে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে এবং এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে।
তিনি জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে, যা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা যাবে।
সরকারি কার্যক্রমের প্রচার বাড়াতে মন্ত্রণালয়গুলোকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



