
বাংলা রিডার ডেস্ক
পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ‘জুমাতুল বিদা’ আজ (২০ মার্চ) সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। দিনটি উপলক্ষে মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও মোনাজাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দুপুরের আগ থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আজানের অনেক আগেই নানা বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ মসজিদে উপস্থিত হন।
বিশেষ করে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ জুমার নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের ঢল নামে। এখানে জুমার নামাজে ইমামতি ও খুতবা প্রদান করেন প্রধান খতিব মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল মালেক।
রমজানের শেষ জুমা হওয়ায় মুসল্লিরা কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার, দান-সদকা এবং তওবা-ইস্তিগফারে অধিক মনোযোগ দেন। দেশের বিভিন্ন মসজিদে খতিবরা জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে খুতবা দেন।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মসজিদে আসা মুসল্লিরা জানান, রমজানের বিদায়ী সময়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও গুনাহ থেকে তওবা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এ রমজান হয়তো তাদের জীবনের শেষ রমজান হতে পারে।
এক মুসল্লি বলেন, ভবিষ্যতে আর রমজান পাবেন কি না তা জানেন না, তাই আজকের জুমার নামাজ আদায় করতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। আরেকজন মুসল্লি আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের দোয়া করেন।
মতিঝিল থেকে বাবার সঙ্গে নামাজ পড়তে আসা এক শিশু জানায়, বাবার কাছ থেকে দিনটির গুরুত্ব জেনে সে জাতীয় মসজিদে এসেছে।
‘জুমাতুল বিদা’ অর্থ বিদায়ের জুমা, যা রমজানের শেষ শুক্রবারকে বোঝায়। এটি আলাদা কোনো ফরজ ইবাদত না হলেও রমজানের শেষ সময়ের বরকতের কারণে দিনটির গুরুত্ব মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত বেশি।
ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, রমজানের শেষ দশক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ সময়েই রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে কুরআনে উল্লেখ আছে। ফলে শেষ জুমার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
এদিকে পবিত্র দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বায়তুল মোকাররম এলাকায় র্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি বাড়িয়েছেন, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ইবাদত করতে পারেন।



