
বাংলা রিডার ডেস্ক
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) এই ফোনালাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কড়া সমালোচনা করেন। এ সময় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসন প্রত্যাখ্যানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, এসব পদক্ষেপ ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও সচেতনতা ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, এসব হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছে এবং এর পরিণতি হবে কেবল অস্থিতিশীলতা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ এই সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট করে বলেছেন—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরব ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং কোনো পক্ষকেই তার ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।
এ অবস্থানের জন্য সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান পেজেশকিয়ান এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুবরাজের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানে সহিংস অভিযানে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই দমনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীটি ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছেন।
মঙ্গলবার আইওয়ায় দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আরও একটি বড় আর্মাডা ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমি আশা করি তারা একটি চুক্তি করবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রও ১২ দিনের সংঘাতে অংশ নিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা করে। সেই সংঘাতের পর থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা



