চাঁদপুরের রাজনীতির মাঠে একমাত্র নারী প্রার্থী নাসিমা নাজনীন

বাংলা রিডার ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির মনোনীত প্রার্থী নাসিমা নাজনীন সরকার।

তিনি চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) সংসদীয় আসন থেকে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক অঙ্গনে একমাত্র নারী প্রার্থী হওয়ায় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে তাকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নাসিমা নাজনীন সরকার বলেন, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের দাবি সংসদে তুলে ধরার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই তার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমি প্রতীকের জোরে নয়, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি হতে চাই। চাঁদপুরের কোনো আসনেই নারী প্রার্থী না থাকাটা আমাদের বাস্তবতা। আমার এই অংশগ্রহণ যেন নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা হয়—এটাই প্রত্যাশা।”

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচটি আসনের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নাসিমা নাজনীন সরকারের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু নির্বাচনি প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

চাঁদপুর-২ আসনে প্রতীক বরাদ্দ অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থী ড. মো. জালাল উদ্দিন পেয়েছেন ধানের শীষ, এলডিপির প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজি পেয়েছেন ছাতা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. এমরান হোসেন মিয়া পেয়েছেন লাঙ্গল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মানছুর আহমেদ সাকি পেয়েছেন হাতপাখা।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ফয়জুন্নুর আখন রাসেল পেয়েছেন হাতি, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী গোলাফ হোসেন পেয়েছেন ট্রাক, নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী এনামুল হক পেয়েছেন কেটলি এবং লেবার পার্টির প্রার্থী নাসিমা নাজনীন সরকার পেয়েছেন আনারস প্রতীক।

অন্যদিকে ঋণখেলাপির অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর হুদার মনোনয়ন আইনি জটিলতায় থাকায় এখনো তার প্রতীক বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়নি।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই আসনে প্রথমে ২০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ১২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ ছিল। পরে আপিল প্রক্রিয়ায় পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন পুনর্বহাল হয়। পরবর্তীতে তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে চাঁদপুর-২ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী প্রার্থী হিসেবে একমাত্র নাসিমা নাজনীন সরকারই ভোটের মাঠে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You