সময়টাকে নিজের করে নাও

রিডার::শাহওয়াজিহা রহমান

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৯ ০৪:৫৯:৩০ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
থাকেন। গোলকোস্টের

-সারাহ্ প্রাউট

যুক্তরাষ্ট্রের লেখিকা, ব্লগার ও বক্তা সারাহ প্রাউটের ব্যক্তি জীবনের সাংসারিক নির্যাতনের কথা প্রায় বলে থাকেন। গোলকোস্টের কাছে দেয়া তার সাক্ষাৎকার অনুলিপি করেছেন শাহওয়াজিহা রহমান ।  

আমার বয়সটা তখন উনিশ।তখন ছেলেটি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম। আমি আসলে চেয়েছিলাম কারো পছন্দের ‘মানুষ’ হতে।কিন্তু এতোকাল বাদে, আজ আমার মনে হয়, সেদিন আদতেই আমার ‘না’ বলা উচিত ছিল।

অন্য আর সব মেয়েদের মতো আমিও চেয়েছিলাম রূপকথার গল্পের মতো আমারও ‘স্বপ্নময়’ বিয়ে হোক । যেই সংসারে আমি সুখে শান্তিতে বসবাস করবো।এমন কাউকে চেয়েছিলাম, যে আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসবে। আমি তাকেই ভালবাসবো।

কেন যেন বিয়ের দিনটিতে অনেকটা নিরাশা কাজ করছিল ।

বিয়ের কনে আমি। আমার চুলটাকে একটু বিশেষভাবে সাজাতে চাইছিলাম। পোশাকটা একটু বিশেষ কিছু হতে পারতো। তা হল না। হেয়ার স্টাইলিস্ট আমাকে জিজ্ঞাসা করল –আপনার কি আজ কোন বিশেষ শখ আছে?

আমি আমাকেই অবাক করে দিয়ে উত্তর দিলাম– আমার বান্ধবী বিয়ে করছে !দিন একটু বিশেষ কিছু করে দিন।

আমি এটা পর্যন্তও স্বীকার করলাম না যে বিশেষ দিনটা আমার, আজ আমারই বিয়ে!

বিয়েটা শেষ পর্যন্ত হল।

তার সঙ্গে সঙ্গে আমার জীবনের পরবর্তী দশ বছরের সাংসারিক নির্যাতনের সূচনা হচ্ছিল। যেখানে আমাকে আমিই হারিয়ে ফেলেছিলাম।

মাঝে মাঝে আমি আমার চাহিদা,আমার প্রয়োজন, আমার মতামত নিয়ে কথা বলতাম। সব মেয়েরাই তাই করে। সেই চাওয়াটা প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ হিসাবে দেখছিল মানুষটা। সঙ্গে নির্যাতন নেমে আসতো আমার উপর।মানষিক যন্ত্রণা আর অকথ্য গালিগালাজ তো আছেই।

অনেক আঘাত,কান্না ও খেয়ালী বদমেজাজের সংসারে দিন কাটিয়ে দিচ্ছিলাম ।

একদিন শহর থেকে বাড়ি ফিরছি। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল সেদিন। কাজ তো থাকতেই পারে। হঠাৎ আমার ফোনের দিকে তাকালাম। বেশকিছু মিসকল। আমার স্বামী ফোন করেছেন।  ফোনে পাঠানো ভয়েস মেসেজগুলো শুনছিলাম।

‘আমি জানিনা তুমি এখন কোথায় আছো? আজ বাড়ি ফেরো, তারপর বোঝাবো মজা। দেরি করে বাড়ি ফেরা কী জিনিষ।’

আর মানুষটার কন্ঠস্বর শুনে, আমার হৃদপিণ্ডটা যেন আমার গলা পর্যন্ত উঠে আসছিল।

ট্যাক্সি বাড়ির কাছে পৌঁছলো। বারান্দার কাছে এসে দেখলাম পুরো রাস্তা জুড়ে আমার কাপড়গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মাটিতে পড়ে থাকা আমার গহনা, ডিজিটাল ক্যামেরার উপর প্রায় উল্টে পড়ে যাচ্ছিলাম ।প্রচন্ড ভয়ে আমার হাত কাঁপছিল।

যখন ব্যাগ থেকে চাবি বের করছিলাম এবং দরজায় চাবি দিতে না দিতেই লোকটা দরজার লক খুললো এবং আমাকে বলল — তুমি কোথায় ছিলে?”

আর আমি ঢুকেই প্রথমে লক্ষ্য করলাম তার নিঃশ্বাস থেকে মদের দুর্গন্ধ আসছে।সে আজ মাতাল হয়ে আছে। মেঝের চারিদিকে ভদকার বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।……………..

হঠাৎ নতুন একটা গন্ধ নাকে এসে ঠেকলো। পেট্রোলের গন্ধ পাচ্ছিলাম।হুট করে আমি বুঝতে পারছিলাম না গন্ধটা কোথা থেকে আসছে।একটু পর দেখলাম আমার কাপড়ের স্তুপ জ‌ড়ো হয়েছে। আর মানুষটা দিয়াশলা‌ই খুঁজছিল। যাতে করে সে সেগুলো জ্বালিয়ে দিতে পারে।

আমার জুতাগুলোর হিল ভেঙে ফেলা হয়েছে। আর আমার কম্পিউটারটাও ভেঙ্গে ফেলেছে। পাশেই পড়ে থাকা হাতুড়ি দেখে বুঝলাম। কুঠার দিয়ে আমার টেবিল ভেঙে ফেলেছে লোকটা।

আমার দাদীর কিছু মূল্যবান ছবি ছিড়ে কুটি কুটি করা হয়েছে। যেগুলো আর কখনো পাবো না। তাঁর জীবন সায়াহেৃ লেখা চিঠিগুলো মৃত্যুর আগে তিনি আমাকে লিখেছিলেন সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

তখন রাত তিনটা হবে।আমি আমার বাবাকে ফোন দিলাম।বললাম –বাবা আমি কি করব?

বাবা বললেন, ‘সারাহ্ তুমি পুলিশকে ফোন করো, বোকা মেয়ে।’

আমার মনে আছে যখন পুলিশ আসলো আমি অনেক শক্ত হয়ে ছিলাম।আমি এতটাই শক্ত হয়েছিলাম যে আমার মধ্যে একটা সাহসী মুখ দেখা যাচ্ছিল।

পুলিশ আমাকে আমার সন্তানদের নাম ও বয়স জিজ্ঞাসা করল।এরপর ঘটনার মূল প্রসঙ্গ নিয়ে যখন প্রশ্ন করছিল একপর্যায়আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম।

আমি শুধু জানতাম আমাদের জীবনে পরিবর্তন দরকার। আর সেটা সম্ভব এই মানুষটাকে ছাড়াই।

নিজেকে ভয়াবহ অসহায় লাগছিল।

আমি চাইছিলাম আমার সন্তানরা যাতে এগুলো কিছু বুঝতে না পারে। আমি আমার দুই সন্তান, আর লোকটা হামলা হাত থেকে বেঁচে যাওয়া দু‌টি সুটকেট আর ৩০ হাজার ডলারের ঋণ মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমারই গড়া সংসার থেকে।

কিন্তু তখনও জানতামও না, দিন শেষে আমার সন্তানদের আমি কি খাওয়াবো।

স্কুল ছুটির পর তাদের নিয়ে সুপার মার্কেটে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি আমার প্রিয় খাবারগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কারণ আমি নিজে না খেয়ে থাকছিলাম শুধুমাত্র আমার সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য।

একদিন আমার মাকে ফোন দিলাম বাধ্য হয়ে। বললাম — মা,আমি ক্ষুধার্ত।আমাকে সাহায্য করো।’

আমার মা সেদিন আমাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ উপদেশটা দিয়েছিল। মা বলেছিলেন, ‘সময়টাকে নিজের হিসাবে দাঁড় করাও’।

আমার জীবনটাকে বদলানোর জন্য যে অনুপ্রেরণা তখন আমার দরকার, জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে যাবার জন্য।

ছয় বছর বাদে যখন আমার সুদিন আসতে শুরু করে, এমন কোন একদিনের কথা বলি।বাজারে গেছি খাবার নিতে।পার্কিং লটে  ট্র‌লি পার্ক করছিলাম, গাড়ির পিছনে সদাই-পাতি রাখ‌ছিলাম।

 

 

তখন আমি নিজেই নিজের সন্তানদের খাওয়াতে সক্ষম। নিজের বিল দিতে পারছি।প্রয়োজনগুলো মিটছে।

হঠাৎ এক নারী আমার সামনে এসে কাঁদতে কাঁদতে বললেন– মাফ করবেন, আমি ক্ষুধার্ত।আমাকে কিছু পয়সা-কড়ি দেবেন? বাচ্চাকে খাওয়াতাম।

কোন একদিন আমি তার জায়গায় ছিলাম। ছয় বছরের সারাহকে যেন দেখছিলাম। সঙ্গে থাকা ব্যাগ খু‌লে বিলের জন্য রাখা ২২০ ডলার তার হাতে দিলাম এবং বললাম — ভেবো না, সব ঠিক হয়ে যাবে। এই দিনটিকে নিজের হিসাবে নিয়ে নাও।

আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে সমর্থ ছিলাম। কারণ আমার বেঁচে থাকার সাহস ছিল। একটা প্রচন্ড বিশৃঙ্খল জীবন থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমি সবসময় চেষ্টা করে গেছি । দ্রুত আমি আমার সীমানা নির্ধারণ করে দিলাম।কারো কাছে সাহায্য চাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। কারণ আমি আমাকেই সাহায্য করা শুরু করেছিলাম।

দশ বছর পরে আমি নতুন করে ভাবতে শুরু করলাম। ২০১৩ সালে ২১ সেপ্টেম্বর। যেদিন আমার জীবন একবার ফের আমাকে সুযোগ দিয়েছিল নতুন করে সুখি হয়ে ওঠার। সেই রূপকথার কাহিনীর মত আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সিয়েন পেট্রিক সিম্পসন আমার দিকে হাত বাড়ালো।সেদিন আমার নতুন করে ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ে করি।

যদি আমরা ভালবাসাকে নিজের মতো করে পাই …… সেই মানুষটা যদি আমাদের যোগ্য হন। আমাদের গোটা পৃথিবী পাল্টে যায়।

 

এই মুহুর্তে পড়া হচ্ছে

লেবুতেই করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি মেলে, এমন খবর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর বাজারগুলোতে হু... আরও পড়ুন

বেড়ে চলেছে লেবুর দাম।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষ বরাবরই নিজেদের নিয়ে উদাসীন। নভেল করোনা ভাইরাসে গোটা বিশ্ব যখন আক্রান্ত হয়ে... আরও পড়ুন

আক্রান্ত হয়ে স্বেচ্ছায়

নভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপের সময় যশোরের মণিরামপুরে মাস্ক না পরে বাইরে আসায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে... আরও পড়ুন

এসিল্যান্ডের নিগ্রহের

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নামই আছে তিনি অর্থের কাঙ্গাল।যে ক্লাব যতো দাম তুলবে তিনি সেই ক্লাবের।কিন্তু কভিড-১৯... আরও পড়ুন

ভাইরাসের প্রকোট যেন

  নভেল করোনাভাইরাসের প্রকটে গত কয়েক সপ্তাহে বেকায়দায় পড়েছে গোটা ইউরোপ।শুরুটা চীনে হলে গত কয়েক... আরও পড়ুন

কয়েক সপ্তাহে তা গোটা

কভিড-১৯ ভাইরাসে থমকে গেছে গোটা বিশ্বের মানুষের দৈনন্দিন জীবন। পর্যাপ্ত পরিমাণে কিট না থাকায় করোনাভাইরাস শনাক্ত... আরও পড়ুন

শনাক্ত করতে হিমশিম

কভিড-১৯ সংক্রমণের সিকি ভাগই মৃদু বা মাইল্ড অবস্থা থেকে এমনিতেই সেরে যায়।তবে এখনও পর্যন্ত ১৫... আরও পড়ুন

ভাইরাস সিভিয়ার পর্যায়

কভিড-১৯ ভাইরাসের আক্রমণে ধরাশায়ী গোটা বিশ্ব। আজ শনিবার পর্যন্ত নভেল করোনায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ২৭... আরও পড়ুন

ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত

এক নভেল করোনাভাইরাসের ভয়ে বিশ্ববাসীর জীবন ওষ্ঠাগত। বাঘা বাঘা নেতাদের ঘায়েল করতে দ্বিধা করেনি কভিড-১৯... আরও পড়ুন

মাঝেই একটু সান্তনা

‘বাড়িত চাল নেই।বউ আছে, বাচ্চা আছে, আমিও তো আছি।রোগে সোগে আলাদা করি মরতে হবে না।... আরও পড়ুন

কথাগুলো বলছিলেন

  সাম্প্রতিক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।